Breaking

Health লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Health লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২৬ মে, ২০২১

৫/২৬/২০২১ ০৯:০২:০০ PM

ব্ল্যাক, হোয়াইট ও ইয়েলো ফাঙ্গাসের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?


ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কিছুটা কমতে শুরু করলেও দেশটিতে কোভিড থেকে সেরে ওঠাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফাঙ্গাস জনিত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।


এর আগে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ও হোয়াইট ফাঙ্গাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া গেলেও সোমবার প্রথম কোনো রোগীর মধ্যে ইয়েলো বা হলুদ ফাঙ্গাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যাওয়ার পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।


উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হার্ষ ইএনটি হাসপাতালে একজন রোগীর মধ্যে তিন ধরনের - কালো, সাদা ও হলুদ ফাঙ্গাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।


হার্ষ ইএনটি হাসপাতালের প্রধান ডা. বিপিএস ত্যাগীর মতে এটি অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। ৫৯ বছর বয়সী একজন রোগীর দেহে হলুদ ফাঙ্গাসের, চিকিৎসা পরিভাষায় যার নাম ''মিউকর সেপটিকাস'', উপস্থিতি পান তিনি।


"এই ফাঙ্গাস সাধারণত সরীসৃপদের মধ্যে পাওয়া যায়। অন্য চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে যতদূর জানতে পেরেছি, এই প্রথম এই ধরনের কোনো রোগী পাওয়া গেল। ঐ একই রোগীর দেহে কালো ও সাদা ফাঙ্গাসের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।"


মিউকোরমাইকোসিস: প্রাণঘাতী 'ব্ল্যাক ফাঙ্গাস' সংক্রমণ


যেই ব্যক্তির দেহে তিন ধরনের ফাঙ্গাস সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে, সঞ্জয় নগরের অধিবাসী ঐ ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তার অক্সিজেন প্রয়োজন হয়নি।


তবে ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে তাকে স্টেরয়েড দেয়া হয়েছিল। ঐ ব্যক্তির ডায়াবেটিসও ছিল।


ডা. ত্যাগীর ভাষ্য অনুযায়ী, "ঐ রোগী ৮-১০ দিন যাবত অসুস্থ ছিলেন। তার সামান্য জ্বর, ক্ষুধামন্দার পাশাপাশি নাক দিয়ে কালো-লাল তরল নির্গত হচ্ছিল এবং নাকের আশেপাশে কিছুটা ব্যথা ছিল।"


"তার এন্ডোস্কপিতে ফাঙ্গাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর পরপরই তার অস্ত্রোপচার করা হয়।"


"এই ফাঙ্গাস জনিত সংক্রমণকে এক ধরনের মিউকরমাইকোসিস হিসেবে চিহ্নিত করা যায়", বলেন ডা. ত্যাগী।


ফাঙ্গাসের রং কি গুরুত্বপূর্ণ?


ভারতে এর আগে কালো ও সাদা বর্ণের ফাঙ্গাস সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।


প্রথমদিকে গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। পরবর্তীতে কর্নাটক, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থানেও এই ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ঘটে।


অনেক হাসপাতালে মিউকোরমাইকোসিসে আক্রান্তদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড তৈরি করা হয়।


এর কিছুদিন পর বিহারে চার জন হোয়াইট বা সাদা ফাঙ্গাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর উত্তর প্রদেশেও একই ধরনেরর কিছু রোগী পাওয়া যায়।


মানুষের মধ্যে এই তিন ধরণের ফাঙ্গাস সম্পর্কে আতঙ্ক রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন আতঙ্কিত না হয়ে মানুষের এই ফাঙ্গাস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা উচিত।


দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের পরিচালক রনদীপ গুলেরিয়া সম্প্রতি ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এই ফাঙ্গাসগুলো নিয়ে একটি ধারণা দিয়েছিলেন।


তিনি বলেন, "ফাঙ্গাসের সংক্রমণ বোঝাতে কালো, সাদা, হলুদ বিভিন্ন নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে এটি সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ফাঙ্গাসটি একেক অঙ্গে একেক রকম রঙয়ের হয়ে প্রতীয়মান হতে পারে, কিন্তু এটি আসলে একই জাতের ফাঙ্গাস।"


"যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের এই ফাঙ্গাসের দ্বারা সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি।"


ডা গুলেরিয়া জানান, "সাধারণত তিন ধরণের ফাঙ্গাসের সংক্রমণ দেখতে পাই আমরা - মিউকরমাইকোসিস, ক্যানডিডা অথবা অ্যাসপারগিলাস ফাঙ্গাস সংক্রমণ।"


"সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় মিউকোরমাইকোসিস । এটি পরিবেশেই অবস্থান করে এবং এটি সংক্রামক নয়। যেসব রোগীর কোভিড চিকিৎসার সময় স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়েছে বা যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের এই ফাঙ্গাসের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।"


গুরুগ্রামের ফর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান পরিচালক ডাক্তার রাহুল ভার্গবও মনে করেন আলাদা আলাদা রং থাকলেও ফাঙ্গাসগুলো একই ধরনের।


ডা ভার্গব বলেন, "ফাঙ্গাসের ভেতরে কোনো রং নেই। এই ফাঙ্গাসটি যখন নাক ও মুখ থেকে সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে দেখা হয়, তখন এর মধ্যে মৃত কোষ দেখা গেছে। 'মিউকর' গ্রুপের ফাঙ্গাস 'রাইজোপাস' শরীরের কোষ মেরে ফেলে এবং মৃত কোষগুলোর কালো একটি দাগ রেখে যায়।"


"সেই থেকে রাইজোপাস ফাঙ্গাসকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি এক ধরণের মিউকোরমাইকোসিস ।"


অন্য দু'টি ফাঙ্গাস সম্পর্কে ডা ভার্গব বলেন, "শরীরে ক্যানডিডা দেখতে অনেকটা দই'য়ের মত দেখায়। তাই এর নাম সাদা ফাঙ্গাস।"


"তৃতীয় এক ধরনের ফাঙ্গাসের নাম অ্যাসপারগিলাস। এটি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এটি শরীরে কালো, নীলচে সবুজ, হলদেটে সবুজ এবং খয়েরি রংয়ে দেখা যায়। বাইরে থেকে কোন রঙয়ের দেখতে, সেই অনুযায়ী এই ফাঙ্গাসের নাম দেয়ার প্রবণতা দেখা গেলেও এর প্রজাতি নির্ণয় করা না গেলে এটির সঠিক চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।"


ফাঙ্গাস সংক্রমণের কারণ কী?


প্রত্যেকটি ফাঙ্গাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বিষয় ছিল - যাদের ফাঙ্গাস সংক্রমণ হয়েছে তাদের প্রত্যেকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল ছিল।


চিকিৎসকরা বলছেন, সুস্থ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের এই ফাঙ্গাস সংক্রমণ হয় না। ফাঙ্গাসটি পরিবেশে অবস্থান করলেও খুব কম ক্ষেত্রেই সংক্রমণের ঘটনা ঘটে।


কারা ফাঙ্গাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারেন, সেসম্পর্কে দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালের ইন্টার্নাল মেডিসিন বিভাগের পরিচালক ডা. রোমেল টিক্কু বলছেন: 


বর্তমানে ফাঙ্গাসের সংক্রমণের হার বেশি হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বৃদ্ধি। সবচেয়ে বেশি মিউকোরমাইকোসিস পাওয়া গেছে কোভিড রোগীদের মধ্যেই।

যাদের ডায়াবেটিস আছে এবং যাদের চিকিৎসার জন্য স্টেরয়েড দেয়া হয়েছে, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে ডায়াবেটিস না থাকলেও যাদের স্টেরয়েড দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে এই ধরণের সংক্রমণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি।

যেসব রোগীদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, তাদের মধ্যেও ফাঙ্গাস সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। পাশাপাশি, কেমোথেরাপি নিতে থাকা বা ডায়ালাইসিস চলতে থাকা রোগীদের মধ্যেও এই সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

করোনাভাইরাস রোগীদের ফুসফুসের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়।


পাশাপাশি করোনাভাইরাস প্রতিহত করতে শরীরের ইমিউন সিস্টেম যখন অতিরিক্ত মাত্রায় কাজ করতে থাকে, তখন স্টেরয়েড শরীরের ক্ষয় রোধ করার কাজ করে।


স্টেরয়েড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কিছুটা দুর্বল করে রোগীদের দেহে শর্করার মাত্রা বাড়ায়, যার ফলে ফাঙ্গাসের সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।


শরীরে ফাঙ্গাসের সংক্রমণের বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে। চিকিৎসার সুবিধার্থে সময়মতো এই ফাঙ্গাস শনাক্ত করা জরুরি।


কয়েকজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলে ফাঙ্গাস সংক্রমণের বর্তমান উপসর্গগুলো সম্পর্কে জানা যায়।


মিউকোরমাইকোসিস, অর্থাৎ 'ব্ল্যাক ফাঙ্গাস'


মিউকোর বা রাইজোপাস ফাঙ্গাসের মাধ্যমে এই সংক্রমণ হয়ে থাকে। এই ফাঙ্গাস সাধারণত মাটি, গাছ, সার, পচা ফল এবং সবজিতে পাওয়া যায়।


এই ফাঙ্গাস সাইনাস, মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে প্রভাব ফেলে। কয়েকটি ক্ষেত্রে এই ফাঙ্গাসের কারণে পরিপাকতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।


এই ধরণের সংক্রমণের ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে চোখ বা চোয়াল অপসারণেরও প্রয়োজন হতে পারে।


চিকিৎসকদের মতে, এই ফাঙ্গাস ফুসফুস বা পরিপাকতন্ত্র আক্রমণ করলে তা শনাক্ত করা কঠিন, কারণ তখন উপসর্গগুলো দেরিতে প্রকাশিত হয়।


মিউকোরমাইকোসিসে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।


এর উপসর্গগুলো হলো: নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাক দিয়ে রক্ত বা কালো তরল নির্গত হওয়া, মাথা ব্যথা, চোখ ফুলে যাওয়া বা ব্যথা, চোখের পাতা খসে পড়া, চোখে ঝাপসা দেখা এবং শেষ পর্যন্ত অন্ধত্ব।


এছাড়া নাকের আশেপাশে কালো ছোট দাগ দেখা যেতে পারে এবং নাকের চারপাশে অসাড়তা তৈরি হতে পারে।


ফুসফুসে সংক্রমণের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দিতে পারে।


মিউকোর সেপটিকাস


এটিও এক ধরণের মিউকোরমাইকোসিস। এর উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, নাক দিয়ে লাল বা কালো তরল নির্গত হওয়া, দুর্বলতা ও নাকের আশেপাশে অসাড়তা।


'ক্যানডিডা' বা হোয়াইট ফাঙ্গাস


যেসব রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং যাদের দীর্ঘসময় আইসিইউতে থাকতে হয়েছে, তাদের মধ্যে এই ধরনের ফাঙ্গাস সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি।


এই ধরনের সংক্রমণের ক্ষেত্রে জিহ্বায় সাদা ছোপ দেখা যায়। এই সংক্রমণ যকৃত ও ফুসফুসে হয়ে থাকে। এটি মিউকোরমাইকোসিসের মত ভয়াবহ নয়।


এই সংক্রমণে মৃত্যুর হার শতকরা প্রায় ১০ ভাগের মত।


সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে গেলে এই ধরনের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।


অ্যাসপারগিলাস সংক্রমণ


করোনাভাইরাস রোগীদের মধ্যে এই ধরনের ফাঙ্গাসের সংক্রমণও দেখা গেছে। তবে এরকম ঘটনা এখন পর্যন্ত খুবই বিরল। এর ফলে ফুসফুসে গহ্বর তৈরি হতে পারে।


এই সংক্রমণের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া হলে সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।


যেভাবে নিজেকে সুস্থ রাখবেন 


এই ধরনের ফাঙ্গাস জনিত সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুবই জরুরি বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।


করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পর রোগীদের ধুলাবালির কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।


অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের পরিচালক ডা, রনদীপ গুলেরিয়া বলেন হাত ধোয়া, অক্সিজেন টিউব পরিষ্কার রাখা, অক্সিজেন সাপোর্টের জন্য ব্যবহৃত পানি জীবাণুমুক্ত করার দিকে নজর দেয়া খুবই জরুরি।


যেসব রোগীদের করোনাভাইরাসের চিকিৎসা চলমান রয়েছে, তাদের অনেকে সুস্থ হয়ে গেলেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে। এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।


বর্তমানে ভারতে নয় হাজারের বেশি মিউকোরমাইকোসিস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে, তবে ক্যানডিডা ও অ্যাসপারগিলাসের রোগী অনেক এখনও অনেক কম।

ছবি ও তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮

৬/২০/২০১৮ ০৫:৩২:০০ PM

ঋতুস্রাব নিয়ে গোলমাল কেন হয়!

সাধারণত মেয়েদের ঋতুক্ষরণ শুরু হয় ৯ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে আবার ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সটা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়েই বেশির ভাগ মেয়ের ঋতু সূচনা হয়। আর সেটা না হলেই অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা শুরু হয়। এটা স্বাভাবিক। কারণ, এটাই বুঝিয়ে দেয় যে, প্রাকৃতিক নিয়ম কাজ করছে না। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি। কারণ, নানা কারণেই ঋতুক্ষরণে দেরী হতে পারে। সেটা সব সময়ে ভয়ের কারণ না হলেও ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।

সাধারণত দুর্বল স্বাস্থ্যের কারণে ঋতু সূচনায় দেরী হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই রক্তাল্পতার জন্য ঋতুক্ষরণ হতে পারে না। তবে আরও কিছু কারণ রয়েছে, যার জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন—

১। যৌনাঙ্গের অস্বাভাবিকতার জন্য সময়ে ঋতুক্ষরণ হয় না।

২। জরায়ু না থাকলে বা অপরিণত থাকলেও সমস্যা হয়।

৩। ডিম্বাশয় ছোট হলে হরমোনের ক্ষরণ কম হয়, ফলে ঋতু সৃষ্টি হয় না।

৪। অনেক সময়ে যোনিপথ বন্ধ থাকার জন্য ঋতুস্রাব ব্যাহত হয়। তলপেটে গোলাকার পিণ্ডের সৃষ্টি করে।

ঋতু সূচনা সময়ে না হলে সেই সঙ্গে নারীত্বের বিকাশও ব্যাহত হয়। স্তন বৃদ্ধি থেকে যৌনকেশের প্রস্ফুটন স্বাভাবিক হয় না।

বুধবার, ১৩ জুন, ২০১৮

৬/১৩/২০১৮ ০২:৫১:০০ PM

যেসব খাবারগুলো নারীর যৌনাঙ্গ ভালো রাখতে সহায়ক!

সাজগোজ, পোশাক-আশাকের উপর নজর দিলেও, মেয়েরা যৌনাঙ্গের দিকে নজর দেয় না। কিন্তু জেনে রাখা দরকার, নারীর যৌনাঙ্গে সংক্রমণের সম্ভাবনা সারাদেহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। অথচ এসব নিয়ে ভাবনাচিন্তা, আলোচনা এড়িয়ে যেতেই আমরা পছন্দ করি।

নারীর যৌনাঙ্গকে জীবাণুর আক্রমণ থেকে বাঁচাতে কী করা উচিত, তা নিয়ে পরে আলোচনা করা হবে। আপাতত আজ থাকছে, কী কী খেলে নারীর যৌনাঙ্গ ভালো থাকে। সংক্রমণ কম হয়। এবং সুস্থ-স্বাভাবিক থাকে।

* ক্র্যানবেরি জুস : খারাপ জীবাণুদের তাড়াতে সহায়ক ক্র্যানবেরির অ্যাসিড কমপাউন্ড।

* টক দই : যৌনাঙ্গের PH-লেভেল বজায় রাখতে সাহায্য করে টক দই।

* রসুন : অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পদার্থে ভরপুর রসুন। এই উপাদান ফাঙ্গাস দূর করতে সাহায্য করে।

* সয় : ফাইটোজেনে ভরপুর সয় বা সয়া (Soya) যৌনাঙ্গ মসৃণ রাখে।

* মিষ্টি আলু : ভিটামিন A সমৃদ্ধ মিষ্টি আলু এমন হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে, যা যৌনাঙ্গ মসৃণ রাখে।

* ডার্ক চকোলেট : ফ্ল্যাভনয়েডে পরিপূর্ণ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসে সমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেট যৌনমিলনের ইচ্ছে বাড়ায়। স্নায়ুকে শান্ত করে। মন ভালো রাখে।

* তাজা ফল : সেক্সে করার সময় যন্ত্রণা ও পিরিয়ডের সময় পেট ব্যথা থেকে বাঁচাতে পারে মিনারেলে ভরপুর তাজা ফল।

* পানি : শরীরের স্বাস্থ্য বজায় রাখার পাশাপাশি নারী যৌনাঙ্গকেও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে পানি। যৌনাঙ্গের দুর্গন্ধ দূর করে।

* অ্যাভাকাডো : পুষ্টিকর ফ্যাটে পরিপূর্ণ অ্যাভাকাডোয় রয়েছে B6 ও পটাশিয়াম। মিলেচ্ছা বাড়ায়।

* ফ্ল্যাকসিড : ফাইটোজেনে ভরপুর ফ্ল্যাকসিডে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এসট্রোজেন হরমোনের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যৌনাঙ্গের শুষ্কতা মেটায়।

* বিভিন্ন ধরনের বাদাম : ওয়াল নাট, হেজ়েল নাট, সূর্যমুখী বীজ, আমন্ডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন E। যৌনাঙ্গের শুষ্কতা মেটাকে এই বাদামগুলি কার্যকরী।
৬/১৩/২০১৮ ০২:৪৬:০০ PM

পুুরুষের হাইড্রোসিল রোগ কি? জেনে রাখুর এর সম্পর্কে!

হাইড্রোসিল হলো অন্ডকোষের চারপাশে ঘিরে থাকা একটি পানিপূর্ণ থলি, যার কারণে অন্ডথলি ফুলে যায়। এই পানিটা প্রকৃতপক্ষে জমে থাকে অন্ডকোষের দুই আবরণের মাঝখানে। জন্মের সময় প্রতি ১০ জন পুরুষ শিশুর মধ্যে প্রায় একজনের হাইড্রোসিল থাকে, তবে অধিকাংশ হাইড্রোসিল চিকিৎসা ছাড়াই প্রথম বছরের মধ্যে মিলিয়ে যায়। আর পুরুষদের সাধারণত ৪০ বছরের ওপরে অন্ডথলিতে প্রদাহ বা আঘাতের কারণে হাইড্রোসিল হতে পারে।

হাইড্রোসিলের সাধারণত ব্যথা হয় না। সাধারণত হাইড্রোসিল ক্ষতির নয়। অনেক সময় চিকিৎসার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে আপনার যদি অন্ডকোষ ফুলে যায় তাহলে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। দেখতে হবে অন্যকোনো কারণে যেমন অন্ডকোষের ক্যান্সার বা অন্যরোগে অন্ডকোষ ফুলে গেছে কি না।

* উপসর্গঃ হাইড্রোসিলের প্রধান উপসর্গ হলো ব্যথাবিহীন ফোলা অন্ডকোষ। পানি ভর্তি বেলুনের মতো অনুভূত হয়। হাইড্রোসিল একটি বা দুটি অন্ডকোষেই হতে পারে।

* কারণঃ ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে গর্ভে থাকা অবস্থায় হাইড্রোসিল হতে পারে। গর্ভাবস্থায় প্রায় ২৮ সপ্তাহে স্বাভাবিক বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শিশুর অন্ডকোষ উদর গহ্বর থেকে অন্ডথালিতে নেমে আসে। প্রতিটা অন্ডকোষের সাথে একটি স্যাক বা থলি (প্রোসেসাস ভ্যাজাইনালিস) থাকে, এর মধ্যে পানি জমে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই স্যাক বা থলি বন্ধ হয়ে যায় এবং পানি শোষিত হয়। তবে থলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও যদি পানি থেকে যায় তাহলে সেই অবস্থাকে বলে ননকমিউনিকেটিং বা সংযোগবিহীন হাইড্রোসিল। কারণ এ ক্ষেত্রে থলি বন্ধ হয় কিন্তু পানি পেটে ফিরে যেতে পারে না। সাধারণত এক বছরের মধ্যে পানি শোষিত হয়ে মিলিয়ে যায়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে থলি খোলা থাকে। এ অবস্থাকে বলে কমিউনিকেটিং বা সংযোগকারী হাইড্রোসিল। থলির আকৃতি পরিবর্তিত হতে পারে, কিংবা অন্ডথলিতে চাপ দিলে পেটে ফিরে যেতে পারে। বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে অন্ডথলির মধ্যে প্রদাহ বা আঘাতের ফলে হাইড্রোসিল হতে পারে। অন্ডকোষ বা এপিডিডাইমসে সংক্রমণ ঘটলে হাইড্রোসিল হতে পারে।

# ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলোঃ

অধিকাংশ হাইড্রোসিল জন্মের সময় থাকে। একে বলে জন্মগত হাইড্রোসিল। অন্য অবস্থাগুলো সাধারণত ৪০ বছর বয়সে বা তার বেশি বয়সে আক্রমণ করে। হাইড্রোসিলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

১. অন্ডথলিতে আঘাত।
২. ইনফেকশন বা সংক্রমণ।
৩. রেডিয়েশন থেরাপি বা রশ্মির সাহায্যে চিকিৎসা।

# যখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেনঃ

আপনার নিজের জন্যঃ যদি আপনার অন্ডথলি ফোলা দেখতে পান তাহলে অতিসত্বর চিকিৎসকের কাছে যান। অন্ডথলি ফুলে যাওয়ার কারণ নির্ণয় করা খুবই জরুরি, বিশেষ করে এটা টিউমার কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। কখনো কখনো হাইড্রোসিলের সাথে ইনগুইনাল হার্নিয়া থাকে। এক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন।

আপনার শিশুর জন্যঃ শিশুদের ক্ষেত্রে হাইড্রোসিল সাধারণত নিজে নিজেই মিলিয়ে যায়। তবে যদি আপনার শিশুর হাইড্রোসিল এক বছরের পর মিলিয়ে না যায় কিংবা ওটা আরো বড় হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

# রোগ নির্ণয়ঃ

সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা করে হাইড্রোসিল নির্ণয় করা হয়। অন্ডথলি ফুলে যেয়ে বড় হয় এবং চাপ দিলে ব্যথা লাগে না। সাধারণত চারপাশের পানির কারণে অন্ডকোষে হাত দিয়ে অনুভব করা যায় না। পেটে কিংবা অন্ডথলিতে চাপ দিলে কখনো কখনো পারিপূর্ণ থলি বড় বা ছোট হতে পারে, এরকম হলে বুঝতে হবে ইনগুইনাল হার্নিয়া রয়েছে।

যেহেতু হাইড্রোসিলের পানি সাধারণত স্বচ্ছ হয়, তাই আপনার চিকিৎসক অন্ডথলিতে টর্চের আলো ফেলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। হাইড্রোসিলের ক্ষেত্রে আলোর অন্ডকোষের বাইরের রেখা দেখা যাবে, এতে বোঝা যাবে ওটার চারপাশে স্বচ্ছ পানি রয়েছে। যদি আপনার চিকিৎসক সন্দেহ করেন যে আপনার হাইড্রোসিল প্রদাহের কারণে হয়েছে, তাহলে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা রোগ নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে।

অন্ডকোষের চারপাশে পানি থাকে বলে অন্ডকোষ হাত দিয়ে অনুভব করা নাও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অন্য পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভাব্য পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

১. আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজিং।
২. পেটের এক্সরে।

# জটিলতাঃ

হাইড্রোসিল সাধারণত বিপজ্জনক নয় এবং সাধারণত এটা প্রজননের ক্ষেত্রে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তবে নিচের অবস্থাগুলোর সাথে এটা সম্পৃক্ত থাকতে পারে, সে ক্ষেত্রে এটা মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারেঃ

১. ইনফেকশন অথবা টিউমারঃ এগুলো শুক্রাণু উৎপাদনে বা শুক্রাণুর কাজে বাধা দিতে পারে।
২. ইনগুইনাল হার্নিয়াঃ হার্নিয়া আটকে গেলে জীবন-মরণ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া সচরাচর যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে সেসব হলোঃ

১. চলাফেরার অসুবিধা।
২. যৌনমিলনে সমস্যা।
৩. হাইড্রোসিল বেশি বড় হলে অন্ডকোষের রক্ত সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা।

# চিকিৎসাঃ

শিশুদের ক্ষেত্রে এক বছরের মধ্যে হাইড্রোসিল আপনা আপনি মিলিয়ে যায়। যদি হাইড্রোসিল এক বছর পরেও মিলিয়ে না যায় কিংবা আরো বড় হতে থাকে তাহলে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে হাইড্রোসিল বড় হয়ে অস্বস্তি ঘটালে অথবা আকৃতির কারণে অপারেশনের প্রয়োজন হয়। অপারেশন সর্বদা দক্ষ সার্জন দিয়ে করাতে হবে।

মঙ্গলবার, ১২ জুন, ২০১৮

৬/১২/২০১৮ ০৩:০৭:০০ PM

অবশেষে জানা গেল পানির স্বাদ কেমন!

ছোটবেলায় পানির রচনা লিখতে গেলে প্রথমেই লিখতে হতো, পানির অন্য নাম জীবন। আর তার কয়েকলাইন পরেই অবধারিত ভাবে আসত এই পঙক্তিটি— পানির কোনও স্বাদ নেই।

কিন্তু সত্যিই কি তাই? পানি কি প্রকৃতই স্বাদহীন? অনেক কাল ধরেই তার্কিকরা বলে আসছেন, পানির স্বাদ পানির মতোই। কিন্তু সে তো তর্কের কথা। আসলে পানির স্বাদ কী রকম, তা অজানা বা অধরাই থেকে গিয়েছে এতকাল। সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী জানালেন পানি প্রকৃতপক্ষেই কী স্বাদের।

কোন বস্তুর স্বাদ কেমন, তা নির্ধারিত হয় মস্তিষ্কের ক্রিয়া দ্বারাই। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কিউরিওসিটি.কম-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল ইঁদুরের জিভে অবস্থিত স্বাদকোষ আর তার সঙ্গে মস্তিষ্কের ক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষা করেন। তাঁরা বিভিন্ন স্বাদকোষকে সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখেন। এবং ইঁদুরদের পানি খেতে দেন। এমতাবস্থায় দেখা যায়, যে স্বাদকোষগুলি পানির স্বাদে সাড়া দিচ্ছে, তা ‘টক’ স্বদের জন্য নির্ধারিত। পরে সেই স্বাদকোষ বন্ধ করে ইঁদুরদের পানির পাশাপাশি প্রকৃতই স্বাদহীন সিলিকন অয়েল পান করানো হয়। দেখা যায়, তাদের স্বাদকোষ কোনওটির স্বাদই ঠিকঠাক নির্ধরাণ করতে পারছে না।

তাহলে পানি কি টক গোত্রের স্বাদই বহন করে? বিজ্ঞানীদের এই মতকে ঘিরে জমছে কৌতূহল।
৬/১২/২০১৮ ১১:৩৭:০০ AM

সহবাসের আগে পুরুষাঙ্গের মাথায় সামান্য মালিশ করুন! নারীকে দিন অধিক তৃপ্তি

বিয়ের মাধ্যেমে একটা মেয়ে তার স্বামীর সংসারে এসে দুটো জিনিসে বেশি খুশি হয়।প্রথমত স্বামীর স্বচ্ছলা অথ্যাৎ ভালো অর্থনৈতি অবস্থা দ্বিতীয়ত স্বামীর আদর। তবে প্রথমটার থেকে দ্বিতীয়টা বেশিরবাগ নারীর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আর প্রত্যেক স্বামীরও উচিত স্ত্রীকে সুখ দেওয়া।অনেক পুরুষ পর্যাপ্ত যৌন জ্ঞানের অভাবে স্তীকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিতে পারে না। তাদের জন্য আজকের এই পোষ্ট। চলুন দেখা যাক কীভাবে নারীকে দ্রুত তৃপ্তি দেওয়া যায়।

১। স্পর্শকাতর স্থানে যেমন গাল, ঠোঁট, কান, গলাতে ঘন ঘন চুমু দেওয়া।

২। আপনার সঙ্গিনীর উরুতে মৈথুনীর পূর্বে ঘর্ষণ করা।

৩। সহবাসের আগে যদি পুরুষাঙ্গের আগায় খুব সামান্য পরিমাণ কর্পূর লাগানো হয় তবে স্ত্রী দ্রুত তৃপ্তি লাভ ক’রে থাকে। তবে কর্পূর যেন বেশি না হয়, তাতে স্ত্রী যোনি ও পুরুষাঙ্গ জ্বলন অনুভূত হ’তে পারে।

মঙ্গলবার, ২২ মে, ২০১৮

৫/২২/২০১৮ ০১:৩৮:০০ PM

যখন গোসল করেন, শরীরের কোন অংশটা সবার আগে ধুয়ে নেন? ভুল কিছু করছেন না তো?

গোসলের সময় শরীরের কোন অংশটা আপনি প্রথম ধুয়ে থাকেন? জেনে নিন তাতে কি হয় শরীরের কোন অংশটা- গোসলের সময় শরীরের কোন অংশটা আপনি প্রথম ধোন? এটা জেনেও আপনার চরিত্র সম্পর্কে অনেক কিছু বলে দেওয়া সম্ভব! কি, কথাটা শুনতে বেশ আজব লাগছে, তাই তো? তবে সত্যিটা হল, বাস্তবিকই এমন করা সম্ভব! কীভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে।

শাস্ত্র মতে আমরা যা কিছুই করি না কেন, তা কোনও না কোনও মানে বহন করে। আর একবার যদি সেই মানেটা বুঝে নেওয়া যায়, তাহলে যে কোনও মানুষের মনকে পড়ে ফলতে কোনও সময়ই লাগে না। সেরকমই আমরা গোসলের সময় শরীরের কোনও অংশটা প্রথম ধুই, তা দেখেও যে কোনও মানুষের সম্পর্কে অনেক গোপন কথা জেনে নেওয়া সম্ভব।

প্রথমটায় এমন যুক্তি মেনে নেওয়াটা বেশ কঠিন। তবে প্রাচীন সব শাস্ত্রে লেখা এই সব তথ্যকে কি এত সহজেই উড়়িয়ে দেওয়া সম্ভব? মনে তো হয় না! তাই তো এই প্রবন্ধে সেইসব নথিগুলি থেকে বাছাই করা সব তথ্য তুলে ধরা হবে, যা পড়তে পড়তে আপনি হয়তো নিজের সম্পর্কেই অনেক অজানা কিছু জেনে যাবেন। তাহলে অপেক্ষা কিসের, চলুন চোখ রাখা যাক বাকি প্রবন্ধে।

বুকের অংশ ধুলে:
এমনটা মনে করা হয় যে যারা গোসলের শুরুতেই বুকের অংশে পানি ঢালেন, তারা খুব বাস্তববাদী হন। শুধু তাই নয়, এরা মুখের উপর সত্য়ি কথা বলে দিতেও পিছপা হন না। সেই সঙ্গে এমন মানুষেরা যে কোনও কাজ খুব মন দিয়ে করতে ভালবাসেন। তবে এদের ধৈর্য খুব কম হয়।


মুখ:
গোসলের শুরুতে মুখে পানি দিলে বুঝতে হবে ওই মানুষটি টাকাকে খুব ভালবাসে এবং টাকা রোজগারের জন্য যে কোনও পর্যায়ে এরা যেতে পারে। তবে এদের চরিত্রের সব থেকে খারাপ দিক হল, নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এরা যে কোনও মানুষকে কাজে লাগাতে তৈরি থাকেন। শুধু তাই নয়, এরা নিজের ভাল ছাড়া আর কিছুই ভাবতে চান না। তাই তো এমন মানুষদের থেকে সবাই দূরে থাকতেই পছন্দ করেন।

বগলের অংশ ধুলে:
যে সব মানুষেরা প্রথমে বগেলর অংশ পরিষ্কার করেন, তারা সাধারণত খুব কর্মঠ হন এবং এদের বিশ্বাস করলে ঠকতে হয় না। চারিত্রিক দিক থেকে এরা খুব অমায়িক হন এবং কর্মক্ষত্রে খুব সফলতা অর্জন করেন। তবে এদের চরিত্রের সবথেকে দুর্বল দিক হল, এরা সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করে ফেলেন। ফলে মারাত্মকভাবে ঠকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চুল:
গোসলের সময় চুল তো ভিজবেই, এতে আলাদ করে মানে খোঁজার কী আছে! অবশ্য়ই আছে। কারণ এমন অনেকে আছেন যারা গোসলের শুরুতে চুলে পানি দিতে পছন্দ করেন না। তাই যারা প্রথমেই চুলে পানি দেন, তাদের চরিত্র বাকিদের থেকে অনেকটাই আলাদা হয়।

এমন মানুষেরা শিল্পী মনের হন। শুধু তাই নয়, এরা বেশ ভাবুক হন। টাকার বিষয়ে তেমন একটা গুরুত্ব দিতে না চাইলেও নিজের কাজ নিয়ে এরা খুব প্যাশানেট হন। এদের কাছে কাজই ভগবান, টাকা নয়। তাই তো এমন মানুষেরা নিজের কাজ নিয়ে থাকতেই বেশি ভালবাসেন।

গোপন অংশ:
যারা গোসলের শুরুতেই শরীরের গোপন অংশে পানি ঢালেন, তারা সাধারণত খুব লাজুক হন। তাই তো এদের পছন্দের মানুষের সংখ্যা খুব কম হয়। প্রসঙ্গত, এদের চরিত্রের সব থেকে খারাপ দিক হল, এরা একেবারেই আত্মবিশ্বাসী হন না। ফলে কোনও কাজই ঠিক মতো করে উঠতে পারেন না। সহজে হেরে যাওয়াও এদের ধাতে থাকে। এক কথায় এমন মানুষেরা খুব দুর্বল চিত্তের হন।

কাঁধ:
শরীরের এই অংশে যারা প্রথমে পানি দেন, তারা জীবনে অসফলতা ছাড়া আর কিছুই পান না। যে কাজই এরা করুক না কেন, তাতে এরা সফল হন না। সেই সঙ্গে জুয়া এবং মদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি থাকার কারণে এক সময়ে গিয়ে এদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। এক কথায় বললে, জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া মানুষদের তালিকায় এদের নাম একেবারে উপরের দিকে থাকে।

অন্যান্য অংশ:
যারা উপরে আলোচিত শরীরে অংশগুলি বাদ দিয়ে বাকি অংশে প্রথমে পানি ঢালেন, তারা সব দিক থেকেই খুব সাধারণ হন। মনের জোর এবং কর্মক্ষমতা থাকলেও সফলতা যেন এদের সঙ্গী হতে চায় না। এর কারণ হিসেবে শাস্ত্রে লেখা আছে যে এই ধরনের মানুষেরা খুব একটা সাহসী হন না। তাই তো চেনা পথের বাইরে গিয়ে কিছুই করতে চান না এরা। তাই তো এদের জীবনটা আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো হয়েই থেকে যায়
৫/২২/২০১৮ ০১:০০:০০ PM

মুরগির মাংস টাটকা না বাসি বুঝবেন যেভাবে

ভারতে পঁচা মাংস কাণ্ডের পর মাংসের যেকোন আইটেমের নাম শুনলেই আঁতকে উঠছেন অনেকেই। এমনকি বাড়িতেও মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন অনেক মানুষ।

কিন্তু সব মাংস তো আর বাসি বা ভাগাড়ের নয়! তাই একটু যাচাই করে খেলেই হলো।

আসুন জেনে নিই জি নিউজ অবলম্বনে দেখে জেনে নিই

টাটকা মুরগির মাংস চেনার উপায়-


১) মাংস পুরনো হলে বা সেটিকে পানি ছিটিয়ে টাটকা করার চেষ্টা করা হলে সেটি থেকে মাংসের স্বাভাবিক গন্ধটাই চলে যায়। মাংস থেকে একটা খারাপ, বোঁটকা গন্ধ বের হবে।

২) মুরগির মাংস টাটকা হলে সেটির রং হবে হালকা গোলাপি৷ মাংস বাসি হলে তার রং পাল্টে যাবে। তখন রং কিছুটা ধূসর বা ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

৩) কাটা মাংসের রক্ত জমাট বেঁধে থাকলে সেই মাংস এড়িয়ে চলুন। কারণ সদ্য কাটা মাংসে বা কাটার ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধার কথা নয়।

৪) প্যাকেটজাত মাংস কেনার সময় লক্ষ্য রাখুন প্যাকেজিংটা ঠিকঠাক রয়েছে কিনা। প্যাকেটের পলিথিন যদি কোনোভাবে খোলা হয়ে থাকে তাহলে সেই মাংস না কেনাই ভাল।

৫) হাত দিয়ে আলতো চেপে পরখ করে দেখে নিন কাটা মাংস খুব শক্ত বা খুব নরম লাগছে কিনা!

খুব শক্ত বা খুব নরম হলে সেই মাংস কিনবেন না। মাংস টাটকা হলে তাতে আলতো চাপ দিলে কিছুটা স্পঞ্জের মতো অনুভূত হবে।

রবিবার, ২০ মে, ২০১৮

৫/২০/২০১৮ ০৫:৫৬:০০ PM

পুরুষাঙ্গ কতটুকু হলে সহবাসে সুখী হবেন

আপাতদৃষ্টিতে মনে হতেই পারে, সহবাসরে ক্ষেত্রে নারীর কাছে পুরুষাঙ্গের আকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু গবেষণার পর এ ধারণার সঙ্গে একমত হতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তারা জানাচ্ছেন, এ

সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০১৫

৭/১৩/২০১৫ ০৫:২৮:০০ PM

রোজায় ভরসা ইসুবগুলের ভুসি

তীব্র গরমের এই দিনে টানা একমাস রোজা রাখা প্রতিটি মুমিনের জন্য অবশ্যই জোরতর ঈমানের পরীক্ষা। এসময় অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। নিয়ম অনুযায়ী রোজা রাখতে সব রকম পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়। এসময় পরিশ্রমী বা স্পর্শকাতর অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু সব সমস্যা এড়িয়ে নির্বিঘ্নে রোজা রাখার প্রধান সহায়ক হতে পারে ইসুবগুলের শরবত। রোজার দিনে পানিশূন্যতা দূর করে আপনাকে প্রাণবন্ত রাখতে এই শরবতের তুলনা নেই। শুধু পানিশূন্যতা দূর নয় ইসুবগুলের আছে আরও নানা গুণ। আসুন জেনে নেয়া যাক।

* ইসুবগুলে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যামাইনো এসিড, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুণ উপকারী।

* পাকস্থলী ঠাণ্ডা বা শীতল রাখতে ইসুবগুলের তুলনা নেই।

* কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, ওজন হ্রাস ইত্যাদিতে ইসবগুলের ভুসি উপকারী।

* পেটব্যথায় দ্রুত উপকার পাওয়া যায় একগ্লাস ইসুবগুল শরবতে।

* পাইলস সমস্যায় ভুগলে প্রতিদিন তিন-চারবার ইসুবগুল শরবত খাওয়া উচিৎ।

* হজমের সমস্যা দূর করতেও ইসুবগুলের তুলনা নেই।

* পেটে সমস্যা দেখা দিলে তিন টেবিল চামচ ভুসি এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ বা পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন এক থেকে দুইবার খাওয়া যেতে পারে। তবে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা, তারা দিনে তিনবারও খেতে পারেন।

* প্রতিদিন ইসবগুলের ভুসি খেলে আমাশয় ও অর্শ রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

* প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস ইসব গুলের ভুষির শরবত খেলে যৌনতা বৃদ্ধি পায়।

* ডায়েবেটিস রোগিদের রক্তে চিনির মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে ইসুবগুলের ভুসি খাওয়া ঠিক নয়।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০১৫

৬/৩০/২০১৫ ০৮:৩৭:০০ PM

প্রতিদিনের সহজ ৬ টি অভ্যাসে সবসময়ের জন্য দূরে রাখুন মুখের দুর্গন্ধ সমস্যা

মুখের দুর্গন্ধ অনেক বিব্রতকর একটি সমস্যা। নানা কারণেই হতে পারে মুখের দুর্গন্ধ। এমনকি নিয়মিত দাঁত ব্রাশ, ফ্লস করার পরও মুখের দুর্গন্ধের সমস্যায় ভুগে থাকেন অনেকেই। কারণ মুখের দুর্গন্ধের সমস্যা শুধুমাত্র ব্রাশের কারণে হয় না। শারীরিক নানা অসুস্থতা, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের নানা কারণেই মুখের দুর্গন্ধের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দৈনন্দিন কাজের কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার সমস্যা একেবারে দূর করে দিতে পারেন বেশ সহজেই। সবসময়ের জন্য নিঃশ্বাসের তরতাজা ভাব ধরে রাখতে এই অভ্যাসগুলো করে নিন আজ থেকেই।

১) খাবারের দিকে নজর দিন
কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া এবং শাক সবজি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার কম খাওয়ার ফলে অনেক সময় মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়ে থাকে। কার্বোহাইড্রেটের বাই প্রোডাক্ট কিটোন মূলত এই দুর্গন্ধের জন্য দায়ী থাকে। তাই খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিন।

২) ব্রাশ ও ফ্লস করুন প্রতিদিন
অনেকেই দিনে দুবার ব্রাশ করেন না আবার ব্রাশ ঠিকমতো করলেও ফ্লস করেন না, এই কাজটি করবেন না। নিয়মিত দুবার প্রতিদিন ব্রাশ ও ফ্লস করে নিন। সেই সাথে জিহ্বাও পরিষ্কার রাখুন। এতে করে মুখে দুর্গন্ধের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারবে না।

৩) প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন
আমাদের মুখের ভেতরের অংশ যতোটা শুকনো থাকবে ততোই মুখের ভেতরে ব্যাকটেরিয়ায় জন্ম হতে থাকে। আমাদের মুখের স্যালিভা এই ব্যাকটেরিয়া ও মুখের দুর্গন্ধ দুটোই দূর রাখে। আর দেহ হাইড্রেট থাকলে স্যালিভার উৎপাদন সঠিক ভাবেই হবে। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি পানের অভ্যাস রাখুন।

৪) চা/কফির পরিমাণ কমিয়ে দিন
চা/কফি দেহকে পানিশূন্য করে ফেলে এছাড়াও চা/কফির অ্যাসিডিক উপাদান মুখের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী থাকে। তাই চা/কফি পরিমাণ কমিয়ে দিন। এর পরিবর্তে চিনি বিহীন সুস্বাদু সবজি ও ফলমূলের জুস পানের অভ্যাস করুন।

৫) ধূমপান বন্ধ করুন
মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে ধূমপান করা। প্রায় প্রতিটি ধূমপায়ীরাই এই সমস্যায় ভুগে থাকে। ধূমপানের ফলে স্যালিভার উৎপাদন কমে যায়। এতে করে মুখে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে থাকে যা দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।

৬) নিয়মিত চেকআপ করান
অনেক সময় মাড়ির ইনফেকশন এবং দাঁতের সমস্যার কারণেও মুখে দুর্গন্ধ হয়ে থাকে। তাই যদি সাধারণ কোনো কারণে দুর্গন্ধ না হয় তাহলে অবশ্যই ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন দাঁত ও মাড়ির।
সূত্রঃ হেলথ ডাইজেস্ট
৬/৩০/২০১৫ ০৮:৩৫:০০ PM

জেনে নিন মারাত্মক কিডনি সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো

শরীরের রক্তকে বিশুদ্ধকরণের জন্য কিডনি হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাই কিডনি সবসময় স্বাভাবিক ভাবে কাজ করে কিনা তা জানার জন্য কিডনির বিভিন্ন লক্ষণগুলোর উপর আমাদের নজর রাখা এবং সজাগ থাকা অত্যন্ত জরুরি।

কিডনির অস্বাভাবিক ক্রিয়া
কিডনির অস্বাভাবিকতা গুরুত্বর স্বাস্থ্য সমস্যার কারন হতে পারে। এখানে কিছু সূচক এবং লক্ষণ বা উপসর্গ উল্লেখ করা হলো যেগুলো দেখা দিলে কিডনিকে সুস্থ রাখার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ঘাম
কিডনি ও মূত্রনালী শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষার কাজ করে তাই যদি দেখা যায় খুব বেশি ঘাম হচ্ছে বা একেবারেই হচ্ছেনা তখন বুঝতে হবে যে কিডনির কাজে কোন ব্যাঘাত ঘটছে। যারা সাধারণত বেশি ঘামেন তারা সৌন্দর্যবোধ সংক্রান্ত কারনে অস্বস্থিবোধ করেন। তাই অত্যাধিক ঘামের জন্য একটি প্রাকৃতিক সমাধান বের করতে হবে এবং সেই সাথে কিডনির কার্যকারিতা ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

দেহে শক্তির অভাব দেখা দিলে
অত্যাধিক শারীরিক ও মানসিক কাজের পর ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক।তবে যদি এই অবস্থার সময়টা খুব বেশি বাড়তে থাকে তবে অবশ্যই তা স্বাভাবিক নয়। আবার যদি দেখা যায় কোন কারন ছাড়াই দীর্ঘ সময় ক্লান্ত লাগে সেটাও স্বাভাবিক নয়। অলসতা ও ক্লান্ত লাগাও কিডনি ও লিভারের কাজের অস্বাভাবিকতাই প্রকাশ করে। তাই কিডনির ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে পরিষ্কার করা ও বিষাক্ততা দূর করার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে তা নাহলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

শরীরে তরল জমে ফুলে যাওয়া
আমরা জানি যে কিডনি শরীরের তরল পদার্থকে নিয়ন্ত্রিত করে। তাই কিডনির ত্রুটিপূর্ণ কাজের ফলে শরীরের এক অংশের তরল অন্য অংশে গিয়ে জমা হতে পারে। বিশেষ করে পা, পাকস্থলী, চোখের কোল ও চোখের পাতায় তরল জমা হয়ে ফুলে যেতে পারে। এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে যে কিডনি ভালো ভাবে কাজ করছে না এবং দেরী না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

শ্রবণশক্তির সমস্যা
শুনে যদিও অবাক লাগতে পারে তবুও কিছু ব্যাপার রয়েছে যেমন কানে শুনতে সমস্যা হওয়াও কিডনির কাজের অপ্রতুলতা প্রকাশ করে। এই ব্যাপারটি তাদের জন্যই জরুরি যাদের মাঝে মাঝে শ্রবণশক্তি কমে যায়। তাই এই অবস্থায় কিডনির কার্যকারিতা প্রাকৃতিকভাবে উন্নত হবে এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।

কোমরের নিচে কটিদেশে ব্যাথা
সাধারণত কোমরের নিচের দিকে যেখানে কিডনি থাকে সেখানে চাপ দিলে যদি ব্যাথা বা কোন ধরনের অস্বস্থি অনুভূত হয় তাহলে তাহলে বুঝতে হবে যে কিডনি যততুকু ভালো কাজ করা উচিত ততটা ভালো কাজ করছেনা। তাই কোমরের নিচের দিকের ব্যাথা হলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

হাঁটুতে ব্যাথা
কিডনি সাধারণত জয়েন্টগুলোর বিশেষ করে হাঁটুর সুস্থতার সাথে যুক্ত। যদি সাধারণ কোনো কারন ছাড়াই হাঁটুতে ব্যাথা অনুভব করেন তাহলে বুঝতে হবে কিডনিতে কোন সমস্যা হতে পারে। তাই হাঁটু ব্যাথা হলে দ্রুত ব্যাথার কারন খুঁজে বের করা এবং তা চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে।

লবনাক্ত খাবারের ইচ্ছা বেড়ে যাওয়া
মাঝে মাঝে দেখা যায় যে নির্দিষ্ট কিছু খাবার যেমন মিষ্টি, ঝাল, লবনাক্ত, মশলাযুক্ত ইত্যাদি খাবারের ইচ্ছা হঠাৎ বেড়ে যায়। শরীরে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের অভাবের কারনে এমন হতে পারে। তাই যদি লবনাক্ত খাবারের ইচ্ছে হঠাৎ করে বেড়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে কিডনির কাজ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শক্তির অভাবে এমন হয়ে থাকে। তাই এসব পরিস্থিতিতে এর কারন জানা খুবই প্রয়োজন তা নাহলে শরীরের অবস্থা গুরুতরভাবে খারাপ হতে পারে।

কিভাবে রক্ষা করবেন কিডনি
যদি কারো কিডনির গুরুত্বর সমস্যা থাকে তবে প্রাকৃতিক চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিতে হবে। তবে কারো যদি তেমন গুরুত্বর সমস্যা না থাকে তাহলে প্রাকৃতিক উপায়ে কিডনিকে বছরে একবার পরিষ্কার করা উচিত। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে কিডনির বিষাক্ততা দূর করার জন্য যেমন-
-কিডনির জন্য বিশেষ চা।
-কিডনির প্রদাহের জন্য জুস এবং পেঁয়াজের স্যুপ।
-বিষাক্ততা দূর করার জন্য ফল ও সবজির প্রাকৃতিক জুস।
-কোমরের নিচের দিকে যেখানে কিডনির অবস্থান সেখানে গরম সেঁক দেয়া।
-কিডনিতে পাথরের চিকিৎসার জন্য বিশেষ চা।
ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে কোন উপায় কার জন্য সঠিক তা জেনে কিডনির বিষাক্ততা দূর করার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। আর গুরুত্বর অবস্থায় অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।


লেখিকা
শওকত আরা সাঈদা(লোপা)
জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ
এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান(স্নাতকোত্তর)(এমপিএইচ)
তথ্য সূত্রঃ your stylish life

শনিবার, ৬ জুন, ২০১৫

৬/০৬/২০১৫ ০৮:৩৫:০০ PM

রোগব্যাধি দূর করতে রসুনের গুণ

তরকারীতে স্বাদ বাড়াতে রসুন খুব পরিচিত একটি নাম। রান্নার কাজে নানাভাবে রসুনের ব্যবহার হয়ে আসছে সুদূর অতীত থেকে। শুধু খাবারের স্বাদ বাড়াতে নয় প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী রসুনে আছে ক্যালরি ১৪৯ কিলো, ফ্যাট ০.৫ গ্রাম, কোলেস্টরেল ০ গ্রাম, সোডিয়াম ১৭ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৪০১ মিলিগ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩৩.০৬ গ্রাম, খাদ্যা আঁশ ২.১ গ্রাম, চিনি ১ গ্রাম, ভিটামিন ৬.৩৬ গ্রাম। এসব উপাদান আপনার শরীরকে নানা ধরনের রোগব্যাধি থেকে রক্ষা করে। আসুন জেনে নেয়া যাক সেসব সম্পর্কে।
* রসুন লাইপোপ্রোটিনের অক্সিডেশান কমায়। শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টরেল কমিয়ে দেয়, বাড়িয়ে দেয় উপকারী কোলেস্টরলের পরিমাণ।
*  রসুনের এলিসিন নামক উপাদানটি রক্তনালীর অভ্যন্তরে অণুচক্রিকার জমাটবদ্ধতা প্রতিহত করে।
* উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে : রসুন রক্তনালীকে প্রশস্ত করে রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখে। এতে দেহের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
* উষ্ণ গরম দুধের সঙ্গে আধা কোয়া রসুন বাটা খেলে শুক্রানু বৃদ্ধি পায়। হাঁড়ের ক্ষয় হ্রাস পায়।
* হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ ও হার্ট এ্যাটাক প্রতিরোধে রসুন এক অসাধারণ ভেষজ।
* পাকস্থলী ও মলাশয়ের ক্যানসার প্রতিরোধে রসুন খুবই কার্যকর। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোয়া করে রসুন খেলে পাকস্থলীর ক্যানসার ও মলাশয়ের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি যথাক্রমে ৪৭% ও ৪০% কমে যায়।
* হেলিকোব্যাকটর পাইলরি নামক এক প্রকার গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে আমাদের অন্ত্রে গ্যাস্ট্রাইটিস ও পেপটিক আলসারের সৃষ্টি হয়। রসুনে থাকা ডাই এলাইল সালফাইড ও ডাই এলাইল ডাই সালফাইড এই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে খুবই উপকারী।
* রসুন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি প্রতিরোধী ক্ষমতা সম্পন্ন। রসুন যেসব জীবাণু এন্টিবায়োটিক র্যাজিস্ট্যান্ট (প্রতিরোধক্ষম) হয়ে গেছে সেসব জীবাণু ধ্বংসে রসুন খুবই কার্যকর।
* দীর্ঘদিনের জ্বর হলে ৫ থেকে ৭ ফোঁটা রসুনের রসের সঙ্গে আধা কাপ গাওয়া ঘি মিশিয়ে খেলে ২ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই জ্বর কমে যাবে।
* দেহের ওজন বিনা কারণেই কমে যেতে থাকলে আধা কোয়া রসুন বেটে আধা গ্লাস দুধের সঙ্গে জ্বাল দিয়ে খেতে হবে। নিয়মিত খেলে দেহের ক্ষয় রোধ হয়ে কাঙ্ক্ষিত ওজন বাড়তে শুরু করবে।
* গাওয়া ঘিয়ের সঙ্গে আধা কোয়া রসুন বাটা অথবা ৫ থেকে ৭ ফোঁটা রস মিশিয়ে খেলে উপকার হয়।
* শরীরের ক্ষত দ্রুত সারাতে রসুন বাটা লাগালে উপকার পাবেন সহজেই।